প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ৩:০৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১:৪০ এ.এম
দাদনে বন্দী ভোলার জেলেরা

দ্বীপ জেলা ভোলা একটি নদীভাঙ্গণ কবলিত এলাকা, এ জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ মৎস্যজীবী । মাছ ধরে জীবনধারণের একমাত্র অবলম্বন দুই লাখের বেশি জেলের।
কিন্তু এ জেলেরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন অঞ্চলভিত্তিক প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে।
তাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে তৈরি করেন নৌকা ও মাছ ধরার অনন্য সরঞ্জাম।
এর পর দাদন ব্যবসায়ীদের আড়দে বিক্রি করতে হয় মাছ কিন্তু যুগযুগ মাছ বিক্রি করলেও কমিশন নেয় আড়ৎদার তবুও দাদন পরিশোধ হয়না।
বছর শেষে দাদনের টাকা দিতে গিয়ে কোন রকম জীবন বাঁচিয়ে রাখার মত চলে জেলেদের।
একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আর দাদনের চাপ অন্যদিকে এনজিও কিস্তিতে বছরের বেশি সময় ধরেই দিশেহারা থাকে জেলে পরিবাররা।
ভোলার খালের বৃদ্ধ তফু মাঝি বলেন, পূর্ব পুরুষ মাছ ধরে এসেছেন, আমরাও ধরি কিন্তু দুই মাসের নিষেধাজ্ঞায় এখন অলস সময় কাটাচ্ছি। অভিযান শেষ হলে মাছ শিকারে যাব কিন্তু নির্ধারিত গদিতেই (আড়ৎ) মাছ বিক্রি করতে হবে। দাদন নেওয়ার কারনে অন্য কোথাও দাম বেশি হলেও এক গদিতেই বিক্রি করতে হবে।
ইলিশাঘাটের মফিজ মাঝি বলেন, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে দুইমাস, মাছ ধরতে পারিনা, সংসার, এনজিও কিস্তি চালাতে হিমশিম খাচ্ছি তাই বাধ্য হয়ে চড়া সুদে দাদন নিতে হচ্ছে। এমন কাজ শিখলাম দাদন শোধ করতে করতেই জীবন শেষ বলে আক্ষেপ করেন মফিজ। ভোলার জেলে পল্লীর ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, ব্যাংকের ঋণ না পাওয়াতে বাধ্য হয়ে তারা আড়ৎদারদের থেকে দাদন নিয়ে যুগের পর যুগ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন।
ভোলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মামুন বলেন, দাদন আর এনজিও ঋণের বোঝাতে জর্জরিত জেলেরা, মাছ ধরাও নিষেধাজ্ঞা আবার মাছধরা শুরু হলে কমবেশি যা পাবে মাছ বিক্রি করতে হবে দাদন নেওয়া মহাজনের গদিতে। এসব কারনে জেলেদের দিন পরিবর্তন হয়না।
তবে ইলিশা মাছঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন ফরাজী জানান, একেকজন আড়ৎদার লক্ষ লক্ষ টাকা জেলেদের কাছে দাদন দেওয়া, এককালীন একজন জেলে কে ১ লক্ষ বা ৫০ হাজার টাকা দাদন দিলে তার কাছে মাছ বিক্রির কমিশনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। শতকরা ১০ টাকা কমিশন নেওয়া হয়। জেলেদের উপর কোন আড়ৎদার জুলুম করে না বরং তাদের নদীতে আপদ-বিপদ সকল কিছু আড়ৎদার দেখতে হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ভোলা শাখার কমকর্তা মোঃ রাসেল জানান.মৎসজীবীদের জন্য অনেক ধরনের ঋণের ব্যবস্থা আছে; কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না।
www.jonotardarpan.com