
ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে স্বামী ও সন্তান বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া তালাকনামা তৈরির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীরের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় ইলিশা ৭নং ওয়ার্ডের জুলফা আক্তার নামক এক নারী, তাঁর বাবা ফজলু রহমান এবং উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের কাজী মো. মামুন ও সহকারী মতিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ইলিশা ৭নং ওয়ার্ডের অধিবাসী ফজলু রহমানের মেয়ে জুলফা আক্তার (এক সন্তানের জননী) তাঁর প্রথম স্বামীকে বিবাহিত অবস্থায় বহাল রেখেই পরকীয়ায় লিপ্ত হন এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্বামীকে আইনগতভাবে কোনো তালাক না দিয়েই তিনি এই দ্বিতীয় বিবাহ সম্পন্ন করেন।
অভিযোগ উঠে যে, জালিয়াতি ঢাকতে জুলফার বাবা ফজলু রহমান মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের কাজী মো. মামুন এবং স্থানীয় রোহিতা মাদ্রাসার শিক্ষক ও কাজী সহকারী মতিনকে দিয়ে পেছনের তারিখ ব্যবহার করে একটি ভুয়া তালাক নোটিশ তৈরি করান। গতকাল ১৬ আগস্ট প্রকাশ পাওয়া ওই নোটিশটি পর্যালোচনা করে প্রতারণা ও মোটা অংকের লেনদেনের বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়।
বিষয়টি নিয়ে ভোলা জজকোর্টের এক অভিজ্ঞ আইনজীবী জানান, গ্রাম-গঞ্জের একশ্রেণীর অসাধু কাজী টাকার লোভে আইন ও নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত কাজী মামুন ও সহকারী মতিনের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং বাল্যবিবাহ দেওয়ার অভিযোগ বহু পুরোনো।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কাজী সহকারী মতিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্রই তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।
অন্যদিকে, উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের প্রধান কাজী মো. মামুন নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, "আমার মূল বালাম বইতে এই তালাকের কোনো নিবন্ধিত রেকর্ড বা এন্ট্রি নেই। সহকারী মতিন কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় এটি করেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।"
প্রথম স্বামীকে না জানিয়ে প্রতারণার আশ্রয়ে এমন বিয়ে ও জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।