
ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা মুজাফফর আলী হাফেজিয়া, নূরানী ও এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং-কে জড়িয়ে একটি অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী। প্রকাশিত ওই সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন তারা।
অনুসন্ধান ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ফ্রি) শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও এতিম শিশুদের দেখভাল করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে ‘লিল্লাহ বোর্ডিং নেই’ বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বাস্তবতাবিবর্জিত। মূলত, এতিম শিশুদের জন্য মাদ্রাসায় ব্যয়বহুল খরচ হওয়া সত্ত্বেও কোমলমতি শিশুদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বিকল্প ও উন্নত উপায়ে সার্বক্ষণিক খাবারের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করে আসছে কর্তৃপক্ষ।
একক প্রচেষ্টায় ব্যয়ভার বহন করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা
বর্তমানে মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষকের ৩০ হাজার টাকা বেতনসহ আনুষঙ্গিক মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য যে সরকারি বরাদ্দ আসে, তার সাথে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে খাবারসহ যাবতীয় ব্যয়ভার এককভাবে বহন করছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মাতাব্বর। তিনি নিজের মূল্যবান জমি নিঃস্বার্থভাবে দান করে এই অলাভজনক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে চাচ্ছে এই দ্বীনি ও এতিমবান্ধব প্রতিষ্ঠানটি যেন এখানে না থাকে। সেই কুচক্রী মহলের সদস্যরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই সম্পূর্ণ অলাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় ব্যাংকার আবদুর রহিম বলেন, কোনো নোংরা ষড়যন্ত্রের কারণে যদি এই মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এখানকার আশ্রয়হীন এতিম শিশুরা কোথায় যাবে? তারা তো এখানে পরিবারের স্নেহে বড় হচ্ছে এবং দ্বীনি শিক্ষা নিচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই এই চক্রান্ত সফল হতে দেব না।"
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
এলাকাবাসীর দাবি, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির যদি কোনো ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকেও থাকে, তবে তা নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানটি চালানো হোক। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই যেন এই ধর্মীয় ও মানবিক প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা ব্যাহত বা বন্ধ না হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধার এই মহৎ উদ্যোগকে বাঁচিয়ে রাখতে তারা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।