ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে যৌতুকের দাবিতে শামিমা আকতার মিতু নামে এক গৃহবধূকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কর্তৃক বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ২টার দিকে আলীনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে মিতু সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মিতু বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাকলাই বাড়ীর শাহে আলম ও নারগিস আক্তারের মেয়ে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে ভোলা টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষক ইমাম হোসেন বাপ্পীর সাথে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মিতুর বাবা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাতা বাপ্পীকে নগদ ১০ লক্ষ টাকা, ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল উপহার হিসেবে দেন। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট হয়নি বাপ্পী ও তার পরিবার। বিয়ের পর থেকেই আরও যৌতুকের দাবিতে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, স্বামী ইমাম হোসেন বাপ্পী তার মা জোসনা বেগমের প্ররোচনায় প্রায়ই মিতুকে মারধর করতেন। গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে যৌতুক নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাপ্পী মিতুকে প্রচণ্ড মারধর করেন। মিতুর মা নারগিস আক্তার খবর পেয়ে উপায়ান্তর না দেখে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এর আগেও গত ২০ মার্চ-২০২৬ যৌতুকের দাবিতে শ্বশুর আবুল কালাম এবং ননদ জুলি ও হ্যাপী মিলে মিতুকে মারধর করে। মিতুর পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিতুকে নিয়মিত নির্যাতন করে আসছে। এমনকি শ্বশুর আবুল কালাম মিতুকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বলেছেন, “তোকে মারছি, আরও মারধর করবো, পারলে কিছু করে দেখাইস।”
হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতর মিতু ও তার পরিবার এই অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত ভোলা টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষক ইমাম হোসেন বাপ্পী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, নিউজ করলে আমার চাকরিতে সমস্যা হবে। এই নিউজ না করার জন্য সাংবাদিকদের তিনি অনুরোধ করেন।