• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |

ভোলায় আ’লীগ নেতার মিথ্যা মামলায় এখনো আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন সাংবাদিক ফরিদ

ভোলা প্রতিনিধি। / ৬৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

সংবাদ প্রকাশ করার অপরাধে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা কর্তৃক অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার রোষানলে পড়ে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা বুকে চেপে ধরে আদালত পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভোলার এটিএন নিউজ এর সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম ও এদিন পত্রিকার ভোলা প্রতিনিধি দাউদ ইব্রাহীম ইব্রাহিম। 

নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম জানায়, ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী  ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপন এর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, চাকরির নামে প্রতারণা, তেতুলিয়া নদীর জেগে ওঠা চর দখলসহ অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

 নির্যাতন করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি সেই চেয়ারম্যান । তাকে মিথা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে জেল খাটায় স্বপন চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাই।

মোঃ ফরিদুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ভোলা বাংলাবাজার সড়কের নতুন মসজিদ দক্ষিণ পাশে বড় মোল্লা বাড়ির সামনে থেকে সহকর্মী ইব্রাহিমসহ তাকে জোর পূর্বক চোখ-মুখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। দিনভর নদীর পার, দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে এবং বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ব্যাপক নির্যাতনের পর তার কাছ থেকে তিনটি ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদবাজি মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। 

প্রায় দুই মাস কারাবন্দি থাকার পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তাদের জামিন মিলে। তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা সুবিধা থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।  

জামিনে বের হয়ে ফরিদুল ইসলাম ভোলার  অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুম করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে স্বপন চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাইসহ পাঁচ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৪৩১/২০২১। 

ওই মামলায় পিবিআই বরিশালকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। 

পিবিআই কর্তৃক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। তবে মামলার পুর্বের ধারায় ১৪৯/৩০৭/৩২৫/৩৪১/৩৬৪/৪০৬ দণ্ডবিধির অপরাধ উল্লেখ থাকলেও বরিশাল  পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ রবিউল ইসলাম (বিপি-৯০১৯২২৩০০৭) ৫ জুন ২০২৫ তারিখে আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, তাতে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং দুই জন আসামি তামিম ও আজগরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে  অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে বাদী ফরিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন। 

মালার সকল তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দিয়ে দুর্বল ধারা দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়ার কারণে পূর্বের ধারা বহাল রেখে ৪ ও ৫ নম্বর আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করেছেন সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম। 

এদিকে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 

অভিযুক্ত স্বপন চেয়ারম্যান কারাগারে  ও তার দুই ভাই কামরুল হাসান মিলন, নাজমুল হাসান বাচ্চুসহ অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category