ভোলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চর বৈরাগীতে সাধারণ কৃষকদের কাছে এখন এক নয়া আতঙ্কের নাম ‘আনোয়ার বাহিনী’। চরের নিরীহ মানুষের জমি দখল, চাঁদা দাবি এবং তথাকথিত শালিস-বিচারের নামে পক্ষপাতিত্বসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক না হয়েও নিজেকে ‘আনোয়ার মাস্টার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে চরে নিজের প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে এ চরদস্যু।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রাতের আঁধারে অন্যের জমি জবরদখল করে চাষ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে। ভোলা সদর উপজেলা বিজেপি নেতা সিরাজুল ইসলাম মামুন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়া মাসুম মিয়াজীদের লগ্নীকৃত জমিতে রাতের আঁধারে ট্র্যাক্টর চালিয়ে চাষ দিয়েছে আনোয়ার বাহিনীর সদস্য সিরাজ কসাই ও তার ছেলে মিজান।
ভুক্তভোগী বিজেপি নেতা সিরাজুল ইসলাম মামুন বলেন, আমাদের ১৫ একর জমি রাতের আঁধারে এই আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে জোরপূর্বক চাষ করা হয়েছে। চরের সাধারণ মানুষ আজ এই আনোয়ার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
জমি চাষে ব্যবহৃত ট্র্যাক্টরের মালিক ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার অজান্তেই রাতের আঁধারে ড্রাইভারকে দিয়ে আনোয়ার মাস্টার ও আলাউদ্দিন সাজী মামুন ভাইদের জমি চাষ করিয়ে নিয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আনোয়ার মাস্টার বলেন, “আমি এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই, এ বিষয়ে আলাউদ্দিন সাজী ভালো বলতে পারবে।” অন্যদিকে আলাউদ্দিন সাজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমি এ ঘটনার কিছুই জানি না।
সার্বিক বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।