ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)—এর স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও দোকান বন্ধের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত নেতার নাম আবু কালাম মাতাব্বর, যিনি চরসামাইয়া ইউনিয়ন বিজেপির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার (ভাইরাল) পর এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ সোহাগ চরসামাইয়া শান্তিরহাট বাজারের ‘কাজী কম্পিউটার্স’-এর স্বত্বাধিকারী। ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে সোহাগ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে সম্প্রতি তাঁর শ্যালক খাইরুল ইসলামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শ্যালক খাইরুল ইসলাম বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি নেতা কালাম মাতাব্বরকে জানান। এরপর কালাম মাতাব্বর কোনো সত্যতা যাচাই না করেই হঠাৎ দোকানে এসে সোহাগকে চড়-থাপ্পড়সহ এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা বাবুল মাতাব্বর নামে আরেকজন দোকানে হামলা চালিয়ে মালামাল ভাঙচুর করেন এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, আমি শান্তিরহাট বাজারে শান্তিতে ব্যবসা করে খাই। কালাম মাতাব্বর ও তাঁর লোকজন অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে পরবর্তীতে আমার আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—এই ভয়ে আমি আইনগত পদক্ষেপে যেতে সাহস পাচ্ছি না।
চরসামাইয়া শান্তিরহাট বাজার কমিটির সভাপতি ইসমাইল মাতাব্বর বলেন, আমি শুনেছি, সিসিটিভি ফুটেজ ও দেখেছি, এটা ঠিক হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা আবু কালাম মাতাব্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভোলা সদর উপজেলা বিজেপির সভাপতি আবদুল জলিল মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।