ভোলা সদর উপজেলায় চরের লগ্নি জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই ও অপহরণের সাজানো ‘নাটক’ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশার বারেক হাওলাদার বাড়ির সামনে তথাকথিত এই ঘটনাটি ঘটে। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ বেপারীর ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে বিচ্ছিন্ন মদনপুর ইউনিয়নের ‘চর বৈরাগী’র লগ্নি জমি নিয়ে ইসমাইল বেপারী, বেলায়েত বেপারী ও মামুন গংদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সচেতন মহলের ধারণা, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো ও দমনের উদ্দেশ্যেই মিজানুর রহমান এই ২০ লাখ টাকা ছিনতাই ও নাটকের অবতারণা করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে মিজানুর রহমানের বর্ণনায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, মিজানুর রহমানের দাবি, অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তাকে একটি পাকা রাস্তা দিয়ে নিয়ে দুইশত গজ দূরের কাঁচা রাস্তায় নেওয়া হয়। অথচ সরজমিনে দেখা গেছে, পুরো রাস্তাটিই সম্পূর্ণ পাকা।
ব্যস্ততম এলাকা, চারপাশে বসতবাড়ি এবং পাশেই দোকান থাকা সত্ত্বেও মিজানুর রহমান কোনো ডাক-চিৎকার করেননি। এমনকি অপহরণকারীরা তার মুখ চেপে ধরেনি বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। ৯ জন হামলাকারীর কাছ থেকে তিনি কীভাবে দৌড়ে পালালেন—তা নিয়েও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর নিকটস্থ বাড়িঘরে না গিয়ে তিনি প্রায় দেড় হাজার গজ দূরত্বের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তার আশ্রয় নেওয়ার পরপরই কীভাবে দ্রুত স্বজনরা সেখানে উপস্থিত হলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কথিত অপহরণের সময় যে অটোরিকশায় মিজানুর রহমান ছিলেন, তার চালক কামাল হোসেনের বক্তব্যেও মিলেছে তীব্র বৈপরীত্য: মিজানুর রহমানের দাবী তাকে পিটিয়ে জোরপূর্বক গাড়ী থেকে নামানো হয়েছে কিন্তু অটোরিকশা চালকের দাবী মিজান অন্য এক যাত্রীর সাথে আপোষেই নেমে গেছে। মিজানের দাবী শপিং ব্যাগে ২০ লাখ টাকা ছিল কিন্তু ড্রাইভারের দাবী শপিং ব্যাগ ছিল না, ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ একটি সাদা বাজারের ব্যাগ।
| এ ছাড়া রাত সাড়ে আটটার দিকে একটি ব্যস্ত সড়কে এ জাতীয় ঘটনা ঘটার পরও চালক নিজে কিংবা পাশের দোকানে কোনো খবর না দেওয়া ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।ঘটনার পরপরই মিজানুর রহমান কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই তোতাপাখির মতো তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসমাইল, বেলায়েত, মামুন, স্বপন ও জহিরের নাম উল্লেখ করতে থাকেন।একটি সাজানো ঘটনার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এই অপচেষ্টা ও মিথ্যা নাটকের পেছনের মূল পরিচালকদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। |