• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
Headline :
মৎস্য ব্যবসায়ী সবুজ মাঝির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ  ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্ত্রী ​ভোলায় জোরপূর্বক ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় জমির মালিককে পিটিয়ে আহত ​ভোলার মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেজে জেলেদের উপর হামলা ও জাল লুটের অভিযোগ, নেপথ্যে ‘সবুজ বাহিনী’ শাসক হতে আসিনি, সেবক হতে এসেছি”: ভোলার কাচিয়ায় আবেগঘন বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইউসুফ ভোলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান ​ভোলায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: ৪০ কেজি ইলিশ জব্দ, এতিমখানায় বিতরণ চোখে দেখিনি কাশেম বাবাকে, তিনি পাঠালেন বেঁচে ফেরার আলো “ ​ভোলায় অনিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ‘ইলিশা সমাজ কল্যাণ’ সংগঠনের খাদ্য সহায়তা বিতরণ ভোলায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ৪ জেলে আটক, ৫ লাখ মিটার জাল জব্দ

​মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে ৩০ বার রক্তদান।। অনন্য দৃষ্টান্ত গড়লেন ভোলার মিজানুর রহমান 

ভোলা প্রতিনিধি। / ১৩৯ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

“রক্ত দিলে হয় না ক্ষতি, জাগ্রত হয় মানবিক অনুভূতি”— এই মানবিক বাণীকে বুকে ধারণ করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার মিজানুর রহমান। এ পর্যন্ত নিজের শরীর থেকে স্বেচ্ছায় ৩০ বার রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি।

​মিজানুর রহমান ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা বাঘারহাট বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ও সদালাপী ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে এলাকায় তিনি এখন রক্তদাতা হিসেবে এক সুপরিচিত নাম।

​স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা না করে যেখানেই রক্তের প্রয়োজন, সেখানেই ছুটে যান মিজানুর। মুমূর্ষু রোগীর স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার জীবনের অন্যতম ব্রত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক বছর আগে এক পরিচিত মানুষের জরুরি প্রয়োজনে প্রথমবার রক্তদান করেছিলেন মিজানুর। সেই যে শুরু, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর নিয়ম মেনে নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন তিনি। সম্প্রতি ৩০তম বারের মতো রক্তদান সম্পন্ন করলেন এই মানবিক যোদ্ধা।

​নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ​”আমি কোনো প্রতিদান বা যশের আশায় রক্ত দেই না। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আমার দেওয়া রক্তে যদি একটি মুমূর্ষু প্রাণ বেঁচে যায়, তবে একজন মানুষ হিসেবে তার চেয়ে বড় আনন্দ আর তৃপ্তি আমার কাছে আর কিছু হতে পারে না। অনেকে ভয় পান, কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই— নিয়ম মেনে রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকে।”

​মিজানুর রহমানের এই ধারাবাহিক মানবিক কাজে প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুরো বাঘারহাট বাজারসহ পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারে নিজের ব্যবসা সামলানোর পরও কেউ রক্তের জন্য যোগাযোগ করলে মিজানুর কখনো ফিরিয়ে দেন না। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হাসপাতালে গিয়ে তিনি রক্ত দিয়ে আসেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি এখন এক অনুপ্রেরণার নাম।

​এলাকার সচেতন মহলের মতে, মিজানুর রহমানের মতো যুবকরাই সমাজের আসল নায়ক। তাদের দেখে যদি নতুন প্রজন্ম রক্তদানে এগিয়ে আসে, তবে রক্তের অভাবে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে আর অকালে প্রাণ হারাতে হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category