ইয়ামিন হোসেন, ভোলা।
মূল ভূখণ্ডের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের খবরে দ্বীপজেলা ভোলায় যেমন আনন্দের বন্যা বইছে, তেমনি ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ নির্মাণ ঝুলে যাওয়ার শঙ্কায় তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ভোলার শেষ প্রান্ত থেকে মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ঢাকার সাথে যুক্ত করার নতুন পরিকল্পনা ঘিরে জেলা জুড়ে এখন আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে।
মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী পরিবেষ্টিত ভোলা দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা। প্রাকৃতিক গ্যাস, বিপুল মৎস্যসম্পদ ও কৃষিপণ্যে সমৃদ্ধ হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় জেলাবাসীকে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় নৌপথের ওপর। জরুরি চিকিৎসাসেবা, কাঁচামাল পরিবহন এবং সাধারণ যাতায়াতে প্রতিদিন মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয়দের। মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে নতুন পথ তৈরি হলে ভোলা যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ—সেই তকমা মুছে যাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ভোলার অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।
আইনজীবী এডভোকেট মনিরুল ইসলাম নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হলে ভোলার দীর্ঘদিনের ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ পরিচয়টি চিরতরে কেটে যাবে। আমরা এর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।”
তবে নতুন এই পথ সংযোগের খবরে যেমন স্বস্তি এসেছে, তেমনি দীর্ঘদিনের মূল দাবি ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ আন্দোলনের সংগঠকরা। ভোলা-বরিশাল সেতু আন্দোলনের নেতা মেহেদী হাসান ও শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোলাকে সরাসরি বরিশালের সাথে যুক্ত করার দাবীতে আমরা পায়ে হেঁটে ঢাকায় গিয়ে অনশনে বসেছিলাম। এই আন্দোলনের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সহকর্মী পদ্মায় ডুবে গিয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছে। অথচ আজ সেই মূল দাবিকে পেছনে ফেলে ভোলার শেষ প্রান্ত থেকে মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে সংযোগের কথা বলা হচ্ছে। আর এই নতুন দাবি ও পরিকল্পনাই বা কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও থেকে যাচ্ছে বড় সংশয়।”
ভোলাবাসীর সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি ও যোগাযোগের সুবিধার্থে দুটি পথেরই গুরুত্ব দেখছেন জ্যেষ্ঠ নাগরিকেরা। ভোলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আহাদ চৌধুরী তুহিন সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু যেমন ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি, তেমনি সড়কপথে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করাও সমান প্রয়োজন। সরকার দ্রুত যে পদক্ষেপটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে, সেটাই ভোলার মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য ভালো হবে।” জেলাবাসীর প্রত্যাশা, বিকল্প সড়কের পাশাপাশি যেন মূল ভোলা-বরিশাল সেতুর কাজও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হয়।