মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীনের চূড়ান্ত প্রান্তে পৌঁছেছে ভোলা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্মৃতিবিজড়িত অঞ্চল রামদাসপুর। প্রতিনিয়ত মেঘনার রাক্ষুসী ঢেউয়ের তোড়ে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার এই ভরা মৌসুমে এখনই যদি স্থায়ী বাঁধ বা ভাঙনরোধে জরুরি উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে অচিরেই ভোলার মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে শত বছরের পুরনো এই রামদাসপুর।
সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রামদাসপুরের একটি বৃহত্তর অংশ ইতিমধ্যে মেঘনার পেটে চলে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট যেটুকু অংশ টিকে আছে, তাও চরম হুমকির মুখে। যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঐতিহাসিক মসজিদ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং অসংখ্য বসতবাড়ি, বাজার ও ফসলি জমি।
ভিটেমাটি ও আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে রামদাসপুরের হাজারো মানুষের। রাতে ঘুমাতে পারছেন না নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল হাই (৬৫) ক্ষোভ ও আর্দ্র গলায় বলেন, “আমাদের বাপ-দাদার স্মৃতি জড়ানো সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে বাড়িঘর নদীতে তলিয়ে যেতে দেখছি, কিন্তু কিছুই করার নেই। সরকার যদি এখনই বাঁধ না দেয়, আমাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।”
রাজাপুরের মাষ্টার হেলাল উদ্দিন বলেন, “রামদাসপুর শুধু একটা এলাকা নয়, এটি ভোলার শত বছরের ইতিহাসের অংশ। একে রক্ষা করতে হলে কাগজের কলমে নয়, বাস্তব মাঠে দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ী বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করতে হবে।
বর্ষা মৌসুম আসায় মেঘনার পানির চাপ ও স্রোত বহুগুণ বেড়েছে, ফলে ভাঙনের গতিও হয়েছে তীব্র। এলাকাটিকে ভোলার মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সর্বস্তরের জনগণ।
তবে ভোলার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন বলেন, রাজাপুরের রামদাসপুরসহ ঝুকিপূর্ণ এলাকায় কাজ চলমান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের একটাই আকুতি— আর কোনো আশ্বাস নয়, রামদাসপুরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অতি দ্রুত যেন কার্যকর টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্যথায়, এবারের বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই কেবলই স্মৃতিতে পরিণত হবে ঐতিহ্যবাহী রামদাসপুর