ভোলায় বিআইডব্লিউটিএর ইলিশাঘাটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মালামাল বহনকারী ট্রলার আটক এবং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন ইলিশা ঘাটের ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর ও লস্কর হাসান।
ভুক্তভোগী ট্রলার চালক আবু তাহের জানান, চরের কৃষকদের মালামাল পরিবহন শেষে তিনি ট্রলার নিয়ে ঘাটে পৌঁছালে ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর ও লস্কর হাসান তাঁর কাছে ট্রলারের বৈধ কাগজপত্র চান। চালক আবু তাহের জানান, এটি কেবল স্থানীয় কৃষকদের মালামাল আনানেওয়ার ট্রলার, ফলে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্র নেই।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর ট্রলারটি আটক করে ভোলা খেয়াঘাটে নিয়ে যাওয়ার এবং নিয়মিত মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে মামলা এড়াতে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে চালকের আকুল আবেদনে টাকার পরিমাণ কমিয়ে ৩ হাজার টাকায় রফা হয়। মো. জাহাঙ্গীরের উপস্থিতিতেই লস্কর হাসানের হাতে নগদ ৩ হাজার টাকা তুলে দেন ভুক্তভোগী চালক।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লস্কর হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফোনের লাইন কেটে ফোন বন্ধ করে দেন।
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়। জবাবে তিনি দাবি করেন, “আমি গত এক সপ্তাহ ধরে ঘাটে অনুপস্থিত। কেউ যদি এমন কোনো কাল্পনিক অভিযোগ এনে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা করব।”
স্থানীয় ট্রলার চালক ও চরাঞ্চলের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ঘাট কর্তৃপক্ষের এমন অনিয়ম ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।