ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা মাদক। সৈয়দ লাহারী বাজার ও ইলিশা রাস্তার মাথা বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের এই বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পেছনে উঠে এসেছে স্থানীয় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়নের নাম। অভিযুক্ত ব্যক্তি ১০ নম্বর সদুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমএলএসএস (পিয়ন) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নির্মূল মাঝির ছেলে মলয় মাঝি। অভিযোগ রয়েছে, এই এলাকায় মাদকের প্রধান ‘সাব-ডিলার’ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি নুরুল ইসলাম নামে এক মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। আটকের পরপরই নুরুল ইসলাম ফোন দেন মূল হোতা মলয় মাঝিকে। মুঠোফোনে আটককৃত ইয়াবা কোথায় পাঠাতে হবে, তা নিয়ে মলয় মাঝির সঙ্গে তার কথোপকথন হয় এবং মলয় তাকে একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে যেতে বলেন। এ সময় মোশারেফ নামের অপর এক মাদক কারবারির সঙ্গেও মলয় মাঝির মোবাইল ফোনে কথা হয়। জনতার জেরার মুখে আটক নুরুল ইসলাম স্বীকার করেন, তারা মলয় মাঝির নির্দেশেই মাদকের এই কারবার চালিয়ে আসছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন মলয় মাঝি। তবে উপস্থিত জনতা মাদক কারবারিদের স্বীকারোক্তি ও ফোনালাপের ধারণকৃত ভিডিও প্রমাণ হিসেবে তার সামনে তুলে ধরলে তিনি একদম চুপ হয়ে যান এবং কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, সদুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একটি নির্জন স্থানে অবস্থিত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন মলয় মাঝি। প্রতি রাতে তার নেতৃত্বেই স্কুলের সামনে বসে মাদকের আসর। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় জমায় শহরের নামীদামি ও উদীয়মান মাদকসেবীরা। সরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদক ব্যবসার আস্তানা বানিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বিদ্যালয়টি মাদকমুক্ত করা এবং মূল কারবারি মলয় মাঝিসহ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।