• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
Headline :
মৎস্য ব্যবসায়ী সবুজ মাঝির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ  ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্ত্রী ​ভোলায় জোরপূর্বক ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় জমির মালিককে পিটিয়ে আহত ​ভোলার মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেজে জেলেদের উপর হামলা ও জাল লুটের অভিযোগ, নেপথ্যে ‘সবুজ বাহিনী’ শাসক হতে আসিনি, সেবক হতে এসেছি”: ভোলার কাচিয়ায় আবেগঘন বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইউসুফ ভোলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান ​ভোলায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: ৪০ কেজি ইলিশ জব্দ, এতিমখানায় বিতরণ চোখে দেখিনি কাশেম বাবাকে, তিনি পাঠালেন বেঁচে ফেরার আলো “ ​ভোলায় অনিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ‘ইলিশা সমাজ কল্যাণ’ সংগঠনের খাদ্য সহায়তা বিতরণ ভোলায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ৪ জেলে আটক, ৫ লাখ মিটার জাল জব্দ

চোখে দেখিনি কাশেম বাবাকে, তিনি পাঠালেন বেঁচে ফেরার আলো “

Reporter Name / ৯৬ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

​ই

ভোলা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অসহায়, অসুস্থ ও বিধবা নারী ফাতেমা বেগমের জীবনের গল্পটা কেবলই এক অবর্ণনীয় কষ্টের। এক বাক-প্রতিবন্ধী সন্তানকে কোলে নিয়ে বেঁচে থাকার পথটা যখন ক্রমশ অন্ধাকারে ঢেকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই জীবন-প্রদীপে আশার আলো উসকে দিলেন দূর পরবাসে থাকা এক দরদী মানুষ।

​তিনি সৌদি আরব প্রবাসী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব আবুল কাশেম মাতাব্বর। প্রথম দফার সহযোগিতার পর ফাতেমা বেগমের নতুন করে বিপদের কথা শুনে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকার নগদ অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছেন এই মানবিক প্রবাসী। আজ বুধবার বিকেলে তাঁর পক্ষ থেকে এই অর্থ সহায়তা অসুস্থ ফাতেমার হাতে পৌঁছে দেন স্থানীয় সাংবাদিক ইকবাল হোসেন রাজু।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীহারা হতদরিদ্র ফাতেমা বেগম শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও বাক-প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ইতিপূর্বেও প্রবাসী আবুল কাশেম মাতাব্বর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। কিন্তু সম্প্রতি এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ফাতেমা বেগম পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। অর্থাভাবে যখন তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তখন বিষয়টি আবারও দূরপ্রবাসে থাকা আবুল কাশেমের কানে পৌঁছায়। মানুষের এমন সীমাহীন কষ্টের সংবাদে স্থির থাকতে না পেরে তিনি আবারও তড়িঘড়ি করে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকার অর্থ সহায়তা পাঠান।

​প্রবাসী আবুল কাশেমের পাঠানো অর্থ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে চোখের জল মুছতে মুছতে ফাতেমা বেগম বলেন, “আমি কাশেম বাবাকে জীবনে কখনো চোখে দেখিনি, চিনিও না। কিন্তু প্রবাসে থেকেও আমার মতো একজন হতভাগীর দুঃখের কথা শুনে তিনি দুই দুইবার ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলেন। তিনি তো শুধু টাকা পাঠাননি, আমার অন্ধকার জীবনে বেঁচে থাকার ভরসা পাঠিয়েছেন। আল্লাহ যেন কাশেম বাবাকে দীর্ঘায়ু দান করেন এবং পরম মমতায় সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন।”

​উল্লেখ্য, ভোলার মাটি ও মানুষের কাছে আলহাজ্ব আবুল কাশেম মাতাব্বর এক চেনা ও আশার নাম। সুদূর প্রবাসে থেকেও নিজ জন্মভূমির দুস্থ, অসহায় ও রোগাক্রান্ত মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সর্বজনবিদিত। সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তিনি সবসময় নিরবে আর্তপীড়িতদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার সচেতন মহলের মতে, আবুল কাশেমদের মতো দরদী মানুষের কারণেই সমাজে আজও মানবতা বেঁচে আছে।

ই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category